সহকর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে চাকরি হারালেন প্রধান শিক্ষক, দেওয়া হলো বাধ্যতামূলক অবসর

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখীপুরে সহকর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়াকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিভাগীয় তদন্ত শেষে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে এ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আব্দুল আজিজ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগগুলো অসদাচরণ হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তার বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ কার্যকর করা হয়।

বিভাগীয় নথি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন মোল্লার সাবেক স্ত্রী শাহানাজের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের অনৈতিক সম্পর্ক এবং অশ্লীল ইমু চ্যাটিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষকের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পরে বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আসে।

তদন্তের অংশ হিসেবে প্রধান শিক্ষককে অভিযোগনামা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এর জবাবে তিনি লিখিত বক্তব্য দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানিতেও অংশ নেন। তদন্ত শেষে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এরপর আলী আসাদ মিয়াকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তার দেওয়া জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী তাকে বাধ্যতামূলক অবসরের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়া বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তার কাছে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠিও আসেনি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিভাগীয় কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠি তাদের কাছে এসেছে। সেটি ইতোমধ্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই শিক্ষক বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *