ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: পদদলিত হয়ে নিহত বেড়ে ১০, সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে শিশুসহ মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে পৌঁছেছে। ভেতরে উদ্ধারকাজ চলাকালে এবং আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এই অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের আট তলায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন:ময়মনসিংহ মেডিকেলে শিশু ওয়ার্ডে ভয়াবহ আগুন, হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে শিশুর মৃত্যু
হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু, সংখ্যা বাড়ার শঙ্কা
আগুন লাগার খবরে হাসপাতালের রোগী, স্বজন ও চিকিৎসক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়া দেখে জীবন বাঁচাতে সবাই একযোগে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি ও পদদলিত হয়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেলেও পরবর্তীতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়ায়। আহত অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নিহতদের মধ্যে হাজেরা বেগম (৫০), শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) ও কুলসুমা (৩৫)-এর নাম জানা গেছে। এছাড়া নিহতদের মধ্যে অজ্ঞাত শিশুও রয়েছে। বাকিদের নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আও পড়ুন:শত শত ডিসেম্বর চলে গেলেও শেখ হাসিনা আর ফিরবে না: রাশেদ খাঁন
যেভাবে আগুনের সূত্রপাত
খবর পেয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ৫টি স্টেশনের ১০টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, হাসপাতালের আটতলায় লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা মেশিনের সাথে যুক্ত বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার কারণে দ্রুত বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতার চেয়ে মূলত ঘন কালো ধোঁয়ার কারণেই পুরো হাসপাতালে মারাত্মক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
হাসপাতাল প্রশাসনের বক্তব্য
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান জানান, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা সচল রাখা হয়েছে। হাসপাতালে পদদলিত হয়ে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

