শেখ হাসিনার ফিরে আসা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের মাটিতে কবরও জুটবে না: সারজিস আলম
পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের (এমপি) চেয়েও অনির্বাচিত পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
বুধবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও সহযোগী সংগঠনগুলোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বক্তব্য ও সভার মূল বিস্তারিত তথ্য:
- লুটপাট ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ: সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির দলীয় জেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছে এবং এটি বর্তমানে ব্যাপক লুটপাটের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান না হয়ে অনেকেই জেলা পরিষদের সদস্য হতে চান। তিনি দাবি করেন, পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে জেলা পরিষদের সদস্য পদ বাগিয়ে নিয়ে পরবর্তীতে ২০ কোটি টাকা লুটপাট করার মানসিকতা তৈরি হয়েছে।
- ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন: পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিএনপির একটি অংশে বহু ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ কোরামবাজি এবং দলীয় প্রভাবের কারণে তাঁদের কাউকেই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি।
- উন্নয়ন সংকট ও নির্বাচনের দাবি: পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা জানান, জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার বিশাল সরকারি বাজেট ও বরাদ্দ আসলেও পাহাড়ে উন্নত কোনো স্বাস্থ্যসেবা গড়ে ওঠেনি এবং মানসম্মত স্কুল-কলেজের তীব্র সংকট রয়ে গেছে। অবিলম্বে স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে জনগণের সঠিক ও জবাবদিহিতামূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।
- আওয়ামী লীগের পুনরাবৃত্তি ও দলীয়করণের সমালোচনা: সারজিস আলম বলেন, বিএনপি একসময় আওয়ামী লীগের শাসনামলে যেভাবে জুলুম, নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হয়েছিল, বর্তমানে ক্ষমতায় এসে তারাও একই পথ বেছে নিচ্ছে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়েছিল, বর্তমান বিএনপি সরকারের ক্ষেত্রে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তা চরম আকারে প্রকাশ পাচ্ছে।
- প্রতিষ্ঠান কুক্ষিগত ও মামলার রাজনীতি: বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সেক্টরে দলীয় লোক পুনর্বাসন ও নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে পার্বত্য এলাকায় এনসিপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই ধরনের রাজনৈতিক চর্চা অতীতে যারা করেছে, তাদের শেষ পরিণতি কী হয়েছে তা এ দেশের জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে।”

